মুফতি মুহাম্মদ আবদুল আজিজ রজভী
বাংলাদেশি ইসলামিক পণ্ডিত। সুনামধন্য বক্তা, লেখক ও গবেষক।
ডাকনাম: আজিজ রজভী
জন্ম তারিখ: ৬ জুন-১৯৯১খ্রি.
জাতীয়তা: বাংলাদেশি
ধর্ম: ইসলাম
বর্ণ: সুন্নি
মাযহাব: হানাফি
পছন্দ: সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে বাঁধা প্রদান
বিবাহ: বিবাহিত
যুগ: আধুনিক
পিতা: মরহুম আবুল হোসাইন সওদাগর
মাতা: রবিয়া খাতুন
জন্মস্থান: নাশিরকুল (সিকলঘাট), রাজারকুল, রামু, কক্সবাজার।
বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- উত্তর ঘোনারপাড়া (বাহারকাচা), ডাকঘর- রাজারকুল, থানা- রামু, জিলা- কক্সবাজার
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
নিজ এলাকা ঘোনারপাড়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা ও রাজারকুল মাসুমিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে চট্টগ্রামের আহসানুল উলুম জামেয়া গাউসিয়াতে অধ্যায়ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন রশিদিয়া রউফাবাদ দাখিল মাদরাসা থেকে (২০০৬) দাখিল (SSC) পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা থেকে যথাক্রমে আলিম (২০০৮), ফাযিল (২০১১) ও কামিল (ফিকহ-২০১৩, তাফসির-২০১৫) সমাপ্ত করেন। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি বিএড কলেজ থেকে বিএড করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল করছেন।
শিক্ষকবৃন্দ:
বহু বড়োবড়ো আলিম ওলামাদের কাছ থেকে তিনি দরস ও সহুবত অর্জন করে ধন্য হয়েছেন। যেমন, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী (রহ), শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী (রহ.), কবি আল্লামা সলিম উদ্দীন হায়দার (রহ.), মুফতি আবদুল মালেক (রহ.), ফকিহে মিল্লাত আল্লামা ওসিয়র রহমান আল-কাদেরী, শাইখুল হাদিস আল্লামা সোলাইমান আনসারি, আল্লামা আমিনুল করিম (রহ.), আল্লামা মীর জাবেদ ইকবাল (রহ.), আল্লামা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জোবাইর রজভী, আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ উল্লাহ নকশবন্দী, আল্লামা মুফতি আবদুর রশিদ হক্কানী ও ডা. মুহাম্মদ এনামুল হক এনাম, প্রমুখ।
সফর:
তিনি-২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ সফর করেন। ২০১৭ সালে পবিত্র হজ্জ ও একই বছর ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফর করেন। একই বছর তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে ওমান সফর করেন। ২০২২ সালে তিনি ধর্মীয় আলোচক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে সফর করেছেন।
বায়আত:
তিনি ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী (রহ.), আওলাদে রাসুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহির শাহ (মা.জি.আ.)-এর হাতে সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়ায় এবং ২০১৮ সালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিখ্যাত (সুন্নি) দরবার 'সাতকানিয়া ধর্মপুর দরবার-এর পীর সাহেব আল্লামা শাহ সুফি সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবদুশ শাকুর রায়হান আজিজি (মা.জি.আ.)-এর হাতে তরিকায়ে নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়ার উপর বায়আতে বারাকাত গ্রহণ করেন।
খিলাফত লাভ:
২০১৬ সালে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর বিশ্ব ইসলামিক কনফারেন্সে দেশি-বিদেশি বহু ওলামায়ে কিরামের উপস্থিতি ও হাজার হাজার শ্রোতাসমাবেশে ড. আল্লামা সৈয়দ ইরশাদ আহমদ আল-বুখারি তাঁকে সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া রাজাভীয়া বারাকাতিয়ার লিখিত ও মৌখিক খিলাফত প্রদান করেন।
অবদান:
তিনি ২০১৪ সালে কক্সবাজারের উখিয়া, হলুদিয়াপালং, পাতাবাড়ি, সোনাঘোনা এলাকায় 'গাউসুল আযম জিলানি কমপ্লেক্স' নামক মাসজিদসহ একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে নিজ এলাকা রামুর পূর্ব রাজারকুল 'হযরত জঙলীপীর ইসলামিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, হিফযখানা-এতিমখানা ও ইমাম আযম আবু হানিফা রহ. জামে মাসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন, নুরুস সুন্নাহ রজভীয়া দরসে নিযামী মাদরাসা ও হিফযখানা। এ ছাড়াও তিনি ইসলামি সাংস্কৃতি অঙ্গনে ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ’নওবাহার একাডেমি’ নামক একটি একক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান করেন। সর্বোপরি, তার প্রতিষ্ঠিত ’নুরুস সুন্নাহ রজভীয়া ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বহু প্রতিষ্ঠানসহ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের প্রচার-প্রসারে বহু সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছেন। দেশের নানাসময় দূর্যোগপূর্ণ সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের অবদান প্রশংসনীয়।
লেখালেখি:
তাঁর একনিষ্ঠ শিক্ষক কবি আল্লামা সলিম উদ্দীন হায়দার রহ. এর সহুবতে থেকে তিনি লেখালেখি ও কাব্যিক প্রতিভা রপ্ত করেন। সেই হিসেবে তিনি খুব ছোটো বেলা থেকে হামদ, নাত, কবিতা, গজল, নাটকসহ, বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কলাম লিখে অভ্যস্ত। অনুরাগ, আমলে সালেহি, হুসনুল বয়ান' আন-নুরুল মুবিন, জলওয়ায়ে নকশবন্দ, নওবাহার (স্ব-রচিত হামদ-নাত) ও আন-নুরুস সাফা (আরবি) রচনা ও প্রকাশনা তার একক মৌলিক গ্রন্থ। এছাড়াও বহু গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি জমা রয়েছে তাঁর লিখা সম্ভারে।
পেশা:
তিনি পেশাগত একজন শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক। নিজের প্রতিষ্ঠিত 'হযরত জঙলীপীর ইসলামিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। নাজেমে আলা হিসেবে ’নুরুস সুন্নাহ রজভীয়া দরসে নিযামী মাদরাসা’য় দেখাশুনা করেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুনামধন্য বক্তা হিসেবে দেশে-বিদেশে রীতিমত বক্তব্য দিয়ে আসছেন।