নিরাময়ের গল্প বলি! (কুতুবদিয়ার মালেক শাহ রহ.)

Aziz Razavi
By -
0



খুব সম্ভবত ১৯৯৮ সালের কথা। তখন বয়সে আমি বেশ ছোটো। হঠাৎ আমার পেটে মারাত্নক এক রোগের সৃষ্টি হয়। প্রায় রাতে পেট ব্যথা শুরু হতো। তাও অর্ধরাতে। আমার কান্না আর চিৎকারে ঘুম ভাঙতো বাবা-মায়ের। তাঁরা উঠতো। আমার যত্ন নিতো। লতাপাতার রস চিবিয়ে পান করাতো। ব্যথা উপশমের চেষ্টা করতো।

অবশ্যই সেসময় চিকিৎসা সেবা এতোটা উন্নত ছিলো না৷ ঘরোয়া চিকিৎসায় নির্ভর করতো গ্রাম-গঞ্জের মানুষেরা। আমার বেলায়ও তাই। এই পেট ব্যথা কখনো দিনে উঠছে কিনা মনে নাই; উঠতো রাতেই। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। পাশে মা কাঁদতেন। বাবা চিন্তা করতেন। উভয়ে দোয়া করতেন।

এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। একদিন ঠিক দুপুরবেলা। আজানের বেশ কিছুক্ষণ আগে আমাদের দরজায় এলেন এক ফকির। ফকিরের মাথায় বাবরি চুল। চিকনা-চাকনা শরীর। গায়ের রং শ্যামলা। বয়সে পৌঢ়। আনমনা টাইফের লম্বা এক চেহারা।

আমাকে ডেকে বললেন, ঘরে কে আছে। বললাম, আমার মা। গম্ভীর স্বরে বললেন, ডাক। মা আড়ালে দাঁড়ালেন। সালাম দিলেন। সালামের জবাব দিয়ে ফকির বললেন- আমাকে কুতুবদিয়ার মালেক শাহ পাঠিয়েছেন। ছোট্ট বয়সে প্রথম শুনলাম এই ফকিরের মুখে- আল্লামা শাহ আবদুল মালেক আল-কুতুবি (রহ.)-এর নাম। হিসেব মতো- সেসময় তিনি জীবিত ছিলেন। ইন্তিকাল করেছেন, ২০০০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি।

যাইহোক! আমার মা খুব বিনীত গলায় বললেন, কী উদ্দেশ্যে আপনার আগমন? ফকির বললেন, তোমার এই ছেলের রোগটা ঠিক করে দিতে। তাঁর পেটে জঠিল একটা সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

মা কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, হ্যাঁ। বাপ! আমার ছেলেটার জন্য দোয়া চাই। ফকির বললেন, এখনই ভালো হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ! মা বললেন কী কী লাগবে? বললেন, ১০ টা কুর়আন লাগবে। ১০ টা টাকা লাগবে। সেসময় একসাথে ১০টা কুরআন মানে অকল্পনীয় ঘটনা। মা বললেন, এতো কুরআন কোথায় পাবো?

ফকির বললেন, সবার ঘর থেকে খুঁজেখুঁজে আনো। আর আমাকে বসানোর ব্যবস্থা করো। কুরআনগুলো দিয়ে যাবো। টাকাগুলো নিয়ে যাবো। আমার মা শ্রদ্ধার সাথে বললেন, ঘরেতো আমার স্বামী নাই সুতরাং এখানে বসতে পারবেন না। এলাকার দিল মুহাম্মদ মামাদের ঘরে বসতে দিলেন। মা গেলেন কুরআন সংগ্রহে। আমাদেরটাসহ ১০টা কুরআন ও টাকা নিয়ে হাজির হলেন মা। দিলেন ফকিরের হাতে।

অচেনা ফকির টাকাগুলো পকেটে নিলেন। কুরআনগুলো মাথার উপর তুললেন। কী কী দোয়া করলেন। আমাকে বললেন- বিসমিল্লাহ হ-ই আ-গর (বিসমিল্লাহ বলে হা-কর) আমি করলাম। উনার শাহাদত আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন আমার খাদ্যনালীর ভেতরে। একটা গোশতের টুকরো বের করলেন। রান্না করা গোশতের মতো। বললেন, এই হলো তার রোগ। এই গোশতে বদনজর লাগছিলো। হজম হয়নি। বদনজর থেকেই তার পেট ব্যথা।

এ ঘটনা এলাকার প্রায় ২০ জন মানুষের সামনে ঘটছিলো। আমার স্পষ্ট মনে আছে। লোকটা যাবার সময় আমাকে কিছু পরনের পুরাতন কাপড় উপহার দিয়েছিলো। আমি কাপড়গুলো গায়ে দিতাম।

আল্লাহর অশেষ দয়ায় সেদিন থেকে পেটের ওই ব্যথা আর অনুভব হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ! কখনো ঘুম ভাঙেনি পেটের ব্যথায়। প্রায় সময় কক্সবাজার কুতুবদিয়ার, মহান কুতুব, মালেক শাহ (রহ.)-এর প্রসঙ্গ আসলে বা তাঁর ওরস বললে এই ঘটনা আমার মনেপড়ে। ঘটনাটি আমার কাছে বেশ গুরুত্ব ও রহস্যপূর্ণ বলে মনে হয়।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)